লোক দুটো যে আমাদের থেকে ভাল দৌড়াতে পারে তা নয়। কিন্তু এমনভাবে দৌড়াতে থাকলে এক সময় যে ধরা পড়ব তা নিশ্চিত। দৌড়ানো অবস্থায় অমলকে বললাম, “এভাবে দৌড়ে পারা যাবে না। দুই জন দুই দিকে দৌড়াতে হবে। সাবধান! ধরা পড়ার চেষ্টাও করবি না। পারলে কোথাও লুকিয়ে পড়িস।”
“আমার জন্য চিন্তা করিস না। তুই দৌড়া। আমি ১৫০০ মিটার চ্যাম্পিয়ন।”
দু’জন আলাদা হয়ে দৌড়াতে আরম্ভ করলাম। লোক দুটোও ভাগ হয়ে আমাদের পিছু ছুটল। প্রচন্ড তেষ্টা পাচ্ছে, এক ফোঁটা পানি পেলে অমৃত মনে হত।এক সেকেন্ডও থামার সুযোগ নেই।
মাথায় একটা দারুণ বুদ্ধি এল! একটা সিনেমায় নায়ককে কাজটা করতে দেখেছি। এক ঝাপ ঝোপের ভিতর লুকিয়ে গাছে উঠে গেলাম। গাছের উপর নিজেকে এমনভাবে আড়াল করলাম যেন লোকটা দেখতে না পায়। আশেপাশের ঝোপঝাড় উল্টিয়ে পাল্টিয়ে খুঁজে হতাশ হয়ে লোকটা ফিরে গেল। এতক্ষণ পর মনে হল আত্মায় পানি পেলাম। আজ মনে হল,আমার সিনেমা দেখা সার্থক!
চারপাশে চোখ রেখে খুব সতর্কভাবে গাছ থেকে নেমে এলাম। প্রচন্ড পিপাসায় দৌড়াতে ইচ্ছে করছে না তারপরও সব তুচ্ছ করে দৌড়াতে লাগলাম। শেষে এই এলাকার মূল সড়কে পৌঁছে গেলাম। দু’একটা রিক্সা ছাড়া রাস্তা মোটামুটি ফাঁকা।
নিজেকে ক্লান্ত কুকুরের মতো মনে হচ্ছে। জিহ্বা বের করেই হাপাতে লাগলাম। কিছূ লোক অবাক হয়ে আমায় দেখে আবার নিজের পথ হাটতে লাগল। রাস্তার বা পাশে খাল ছিল। কোন কিছু বিবেচনা না করে খালে নেমে একরাশ ময়লা পানি খেয়ে নিলাম। পিপাসা যে কত তীব্র হতে পারে, আজ তার বাস্তব অভিজ্ঞতা হলো। জীবনে কখনো খালের পানি ছুয়েছি কিনা জানি না, আজ খেতেই হলো!
এখনো অনেক কাজ বাকি তাই সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই।
একজনকে জিজ্ঞাসা করলাম, “ভাই এখান থেকে পুলিশ স্টেশন কতদূর হবে?”
লোকটা কতক্ষণ আমার দিকে চেয়ে বলল, “এক দেড় মাইল তো হবেই।”
হেটে কাজ হবে না। রিক্সা, টেম্পুর খোঁজ করলাম। পকেটে হাত দিয়ে দেখলাম দুটো দশটাকার নোট আছে। তাই দিয়ে এক রিক্সাওয়ালাকে রাজি করালাম। রিক্সা দ্রুত থানার দিকে চলতে লাগল। রিক্সায় উঠে একটু স্বস্তি পেলাম। তবে ওদের তিনজনকে নিয়ে চিন্তা হচ্ছে। অমলটা কী ধরা পড়ল? মজনু আর সিদ্দিকের কী অবস্থা? বেঁচে আছে তো? হাজারটা চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। তারপরও মাথা ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করলাম।
আধাঘন্টার ভিতর থানায় পৌঁছে গেলাম। পুলিশ স্টেশনের অবস্থা একেবারেই বেহাল। সামনের সাইনবোর্ডের অনেক লেখা মুছে গেছে, সাইনবোর্ডটাও ঝুলে পড়েছে। বিল্ডিংয়ের ইটগুলোর অবস্থা জীর্ন-শীর্ন বুড়োর মতো। মাঠে দুটো গরু আর কয়েকটি ছাগল চড়ে বেড়াচ্ছে। দু’জন লোককে খাকি প্যান্ট আর সাদা গেঞ্জি পড়ে থানার বারান্দায় লুডু খেলায় মগ্ন দেখলাম। লোক দুটোকে তোয়াক্কা না করে থানার ভেতরে ঢুকে গেলাম। একজন বোধ হয় ডাকার চেষ্টা করল কিন্তু না শোনার ভান করলাম।
থানার ওসি টেবিলের উপর মাথা রেখে খুব আরাম করে ঘুমুচ্ছিলেন।
“অফিসার, তাড়াতাড়ি উঠেন, খুবই জরুরি কাজ”- ডেকে জাগিয়ে দিলাম।
অফিসার মহাবিরক্ত হয়েছে বলে মনে হল। খুব তেড়ে গলায় বলল,“কী হয়েছে শুনি? এত হরফর কিসের। আমার কাঁচা ঘুমটাই ভেঙ্গে গেল! হাসু, জগা তোরা কী করছিস। ছেলেটা ঢুকল কীভাবে?”
ডাকাডাকি শুনে বাইরে বসে থাকা লোক দুটো ভিতরে ঢুকল। বুঝলাম এরাও পুলিশের লোক। হাবিলদার হবে হয়ত। এদের একজনের নাম হয়ত জগা, আর একজনের নাম হাসু।
আমি পুলিশ অফিসারকে বললাম, “অফিসার, আমার কথাটুকু একটু শুনুন। বিশাল বড় একটা কান্ড ঘটে গেছে।”
তারপর একে একে সব ঘটনা খুলে বললাম অফিসারকে। এত সিরিয়াস কথা শুনেও অফিসারের চেহারার কোন পরিবর্তন হলো না। বিশ্বাস করেনি বুঝতে পারছি।
উল্টো বলল, “দেখ, ছেলে এই বয়সে তোমাদের লেখা পড়া করার সময়। আজগুবি কাহিনী বানিয়ে পুলিশকে বোকা বানাতে এস না। জেলে পুরে দিলে তামাশার মজা বুঝতে পারবে।”
“বিশ্বাস করুণ, আমার তিন বন্ধু এখনো ওদের হাতে বন্দি। ওদের উদ্ধার করতে হবে।”
ধরেই নিলাম অমল ওদের হাতে ধরা পড়ে গেছে।
পুলিশ অফিসারের নাম নান্নু। জানই তো পুলিশের নাম জানা সবচে‘ সোজা। অফিসার চেয়ার দুলিয়ে বললেন, “মাসুদ রানা আর তিন গোয়েন্দা পড়ে ছেলেদের মাথা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সব ছেলে নিজেদের গোয়েন্দা ভাবে। শোন বাচা, তোমার বয়সে আমি কম দুষ্ট ছিলাম না। কত গাছের আম চুরি করেছি আর কত লোককে যে ঠ্যাঙ্গিয়েছি তার কোন ইয়ত্তা নেই। মাঝে মাঝে গোয়েন্দা সেজে সবার সাথে বাহাদুরিও কম করিনি। যাও বাড়ি গিয়ে মন দিয়ে পড়ালেখা কর।”
“পিল্জ অফিসার, আমার কথা বিশ্বাস করুন।”
“বিশ্বাস তো করলাম-ই।”
“তাহলে আমার সাথে চলুন।”
“যাও গিয়ে ওদের পাহারা দাও আমরা রেডি হয়ে আসছি।”বলে তিনজনে হো হো করে হেসে উঠল।
প্রচন্ড রাগে গা ঝা ঝা করতে লাগল। মাথাটাও খুব ধরেছে। কে ধরেছে বলতে পারব না! লোকে বলে তাই আমিও বললাম। বাড়ি ফিরে যাওয়ার মনস্থির করলাম। অনিক নিশিদের সাথে দেখা করে যা করার করতে হবে। আগের রিকসাওয়ালাকেই পেয়ে গেলাম। পেসেঞ্জার পায়নি বলে কোথাও যায়নি। এই রিক্সাতেই বাড়ির পথে রওনা হলাম।
“আমার জন্য চিন্তা করিস না। তুই দৌড়া। আমি ১৫০০ মিটার চ্যাম্পিয়ন।”
দু’জন আলাদা হয়ে দৌড়াতে আরম্ভ করলাম। লোক দুটোও ভাগ হয়ে আমাদের পিছু ছুটল। প্রচন্ড তেষ্টা পাচ্ছে, এক ফোঁটা পানি পেলে অমৃত মনে হত।এক সেকেন্ডও থামার সুযোগ নেই।
মাথায় একটা দারুণ বুদ্ধি এল! একটা সিনেমায় নায়ককে কাজটা করতে দেখেছি। এক ঝাপ ঝোপের ভিতর লুকিয়ে গাছে উঠে গেলাম। গাছের উপর নিজেকে এমনভাবে আড়াল করলাম যেন লোকটা দেখতে না পায়। আশেপাশের ঝোপঝাড় উল্টিয়ে পাল্টিয়ে খুঁজে হতাশ হয়ে লোকটা ফিরে গেল। এতক্ষণ পর মনে হল আত্মায় পানি পেলাম। আজ মনে হল,আমার সিনেমা দেখা সার্থক!
চারপাশে চোখ রেখে খুব সতর্কভাবে গাছ থেকে নেমে এলাম। প্রচন্ড পিপাসায় দৌড়াতে ইচ্ছে করছে না তারপরও সব তুচ্ছ করে দৌড়াতে লাগলাম। শেষে এই এলাকার মূল সড়কে পৌঁছে গেলাম। দু’একটা রিক্সা ছাড়া রাস্তা মোটামুটি ফাঁকা।
নিজেকে ক্লান্ত কুকুরের মতো মনে হচ্ছে। জিহ্বা বের করেই হাপাতে লাগলাম। কিছূ লোক অবাক হয়ে আমায় দেখে আবার নিজের পথ হাটতে লাগল। রাস্তার বা পাশে খাল ছিল। কোন কিছু বিবেচনা না করে খালে নেমে একরাশ ময়লা পানি খেয়ে নিলাম। পিপাসা যে কত তীব্র হতে পারে, আজ তার বাস্তব অভিজ্ঞতা হলো। জীবনে কখনো খালের পানি ছুয়েছি কিনা জানি না, আজ খেতেই হলো!
এখনো অনেক কাজ বাকি তাই সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই।
একজনকে জিজ্ঞাসা করলাম, “ভাই এখান থেকে পুলিশ স্টেশন কতদূর হবে?”
লোকটা কতক্ষণ আমার দিকে চেয়ে বলল, “এক দেড় মাইল তো হবেই।”
হেটে কাজ হবে না। রিক্সা, টেম্পুর খোঁজ করলাম। পকেটে হাত দিয়ে দেখলাম দুটো দশটাকার নোট আছে। তাই দিয়ে এক রিক্সাওয়ালাকে রাজি করালাম। রিক্সা দ্রুত থানার দিকে চলতে লাগল। রিক্সায় উঠে একটু স্বস্তি পেলাম। তবে ওদের তিনজনকে নিয়ে চিন্তা হচ্ছে। অমলটা কী ধরা পড়ল? মজনু আর সিদ্দিকের কী অবস্থা? বেঁচে আছে তো? হাজারটা চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। তারপরও মাথা ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করলাম।
আধাঘন্টার ভিতর থানায় পৌঁছে গেলাম। পুলিশ স্টেশনের অবস্থা একেবারেই বেহাল। সামনের সাইনবোর্ডের অনেক লেখা মুছে গেছে, সাইনবোর্ডটাও ঝুলে পড়েছে। বিল্ডিংয়ের ইটগুলোর অবস্থা জীর্ন-শীর্ন বুড়োর মতো। মাঠে দুটো গরু আর কয়েকটি ছাগল চড়ে বেড়াচ্ছে। দু’জন লোককে খাকি প্যান্ট আর সাদা গেঞ্জি পড়ে থানার বারান্দায় লুডু খেলায় মগ্ন দেখলাম। লোক দুটোকে তোয়াক্কা না করে থানার ভেতরে ঢুকে গেলাম। একজন বোধ হয় ডাকার চেষ্টা করল কিন্তু না শোনার ভান করলাম।
থানার ওসি টেবিলের উপর মাথা রেখে খুব আরাম করে ঘুমুচ্ছিলেন।
“অফিসার, তাড়াতাড়ি উঠেন, খুবই জরুরি কাজ”- ডেকে জাগিয়ে দিলাম।
অফিসার মহাবিরক্ত হয়েছে বলে মনে হল। খুব তেড়ে গলায় বলল,“কী হয়েছে শুনি? এত হরফর কিসের। আমার কাঁচা ঘুমটাই ভেঙ্গে গেল! হাসু, জগা তোরা কী করছিস। ছেলেটা ঢুকল কীভাবে?”
ডাকাডাকি শুনে বাইরে বসে থাকা লোক দুটো ভিতরে ঢুকল। বুঝলাম এরাও পুলিশের লোক। হাবিলদার হবে হয়ত। এদের একজনের নাম হয়ত জগা, আর একজনের নাম হাসু।
আমি পুলিশ অফিসারকে বললাম, “অফিসার, আমার কথাটুকু একটু শুনুন। বিশাল বড় একটা কান্ড ঘটে গেছে।”
তারপর একে একে সব ঘটনা খুলে বললাম অফিসারকে। এত সিরিয়াস কথা শুনেও অফিসারের চেহারার কোন পরিবর্তন হলো না। বিশ্বাস করেনি বুঝতে পারছি।
উল্টো বলল, “দেখ, ছেলে এই বয়সে তোমাদের লেখা পড়া করার সময়। আজগুবি কাহিনী বানিয়ে পুলিশকে বোকা বানাতে এস না। জেলে পুরে দিলে তামাশার মজা বুঝতে পারবে।”
“বিশ্বাস করুণ, আমার তিন বন্ধু এখনো ওদের হাতে বন্দি। ওদের উদ্ধার করতে হবে।”
ধরেই নিলাম অমল ওদের হাতে ধরা পড়ে গেছে।
পুলিশ অফিসারের নাম নান্নু। জানই তো পুলিশের নাম জানা সবচে‘ সোজা। অফিসার চেয়ার দুলিয়ে বললেন, “মাসুদ রানা আর তিন গোয়েন্দা পড়ে ছেলেদের মাথা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সব ছেলে নিজেদের গোয়েন্দা ভাবে। শোন বাচা, তোমার বয়সে আমি কম দুষ্ট ছিলাম না। কত গাছের আম চুরি করেছি আর কত লোককে যে ঠ্যাঙ্গিয়েছি তার কোন ইয়ত্তা নেই। মাঝে মাঝে গোয়েন্দা সেজে সবার সাথে বাহাদুরিও কম করিনি। যাও বাড়ি গিয়ে মন দিয়ে পড়ালেখা কর।”
“পিল্জ অফিসার, আমার কথা বিশ্বাস করুন।”
“বিশ্বাস তো করলাম-ই।”
“তাহলে আমার সাথে চলুন।”
“যাও গিয়ে ওদের পাহারা দাও আমরা রেডি হয়ে আসছি।”বলে তিনজনে হো হো করে হেসে উঠল।
প্রচন্ড রাগে গা ঝা ঝা করতে লাগল। মাথাটাও খুব ধরেছে। কে ধরেছে বলতে পারব না! লোকে বলে তাই আমিও বললাম। বাড়ি ফিরে যাওয়ার মনস্থির করলাম। অনিক নিশিদের সাথে দেখা করে যা করার করতে হবে। আগের রিকসাওয়ালাকেই পেয়ে গেলাম। পেসেঞ্জার পায়নি বলে কোথাও যায়নি। এই রিক্সাতেই বাড়ির পথে রওনা হলাম।
No comments:
Post a Comment