পাগল-খাইয়া মাঠের শেষ সীমানায় এসে জীপটা থেমে গেল। একে একে সবাই জীপ থেকে নেমে এলাম। আমি সবাইকে পথ দেখিয়ে সুড়ঙ্গের যে মুখ দিয়ে আমি আর অমল লুকিয়ে এসেছিলাম সে জায়গায় নিয়ে গেলাম। কিন্তু মুখটা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। কিছুক্ষণ আগেই যে কাজটা করা হয়েছে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। পুলিশ অফিসার বলল,“ মনে হচ্ছে মাটি চাপা দিয়ে অপরাধীরা পালিয়েছে। ”
আমি বললাম,“ভিতরেও থাকতে পারে। আমি আর একটা পথ জানি, আসুন দেখি ঐ পথটা ব্যাবহার করে ঢুকতে পারি কি না?”
স্যার বললেন ,“ ঐটাও যদি বন্ধ করে দেয়।”
“মনে হয় না ওটা বন্ধ করা সম্ভর।”
মজনু কলা পাড়তে গিয়ে যে জায়গা দিয়ে সুড়ঙ্গে ঢুকে পড়েছিল আমি ওদের ওখানটায় নিয়ে গেলাম। আমি এখানকার অবস্থা আগের থেকে জানি। তাই আমার নামতে অসুবিধা হলো না। বাকি যারা নামল ঠ্যালাটা বুঝে গেল। স্যারকে নামতে নিষেধ করলাম। স্যার উপরে আমাদের অপেক্ষায় রইলেন।
পুলিশ অফিসার আমাদের উপর মহা বিরক্ত। কাজ ফাঁকি দেয়া লোকদের এই স্বভাব। যখন কাজ এসে পড়ে তাদের চেয়ে অখুশি আর কেউ হয় না। ভাগ্যিস, পুলিশওয়ালারা টর্চলাইট নিয়ে এসেছিল, তাই আগের মত কবরের অন্ধকারে পথ চলতে হয়নি। ত্রিমুখো সুড়ঙ্গে পৌছে নাক বরাবর চলে চোর ডাকাতদের বিশ্ববিদ্যালয় পৌঁছে গেলাম। চোর ডাকাতদের বিশ্ববিদ্যালয় এবং তাদের ডিপার্টমেন্ট দেখে সবাই পুরো থ বনে গেল। আমি একবার থ বনে গেছিলাম, তাই দ্বিতীয়বার থ বললাম না। শুধু ভাব নেয়ার চেষ্টা করলাম। পুলিশ অফিসার মুখটা কাচু মাচু করে বলল,“অথচ আমরা এর কিছুই জানতাম না। ইউনিভার্সিটি খুলল একবার অনুমতিও নিল না। ”
চোর ডাকাতদের ছাত্র শিক্ষক সব পালিয়েছে তাই জায়গাটা শূণ্য, নীরব। গরু, ছাগলগুলোও নেই। পুলিশের সাথে আমরাও বিভন্ন ডিপার্টমেন্টে গিয়ে তল্লাশি চালালাম। ওদের জিনিসপত্র সব ঠিক আছে শুধু লোক নেই।
একজন হাবিলদার সাইজের পুলিশ বলল, “স্যার, কারো কোন সাড়া পাওয়া গেলনা। সব পালিয়েছে। ”
আর একজন বলল, “কাল সকালে পুরো এলাকায় তদন্ত করা যাবে।”
অনিক সন্দেহের সুরে বলল, “আচ্ছা সুড়ঙ্গের ভিতর কী সুড়ঙ্গ থাকতে পারে না। যেমনটা ঘরের ভিতরে ঘর থাকে। ।”
আমি বললাম, “এখন তামাসা করার সময় নয়। যা বলার স্পষ্ট করে বল। ”
ও আবার বলল, “সবাই একটু এদিকে আসুন। যা ধারণা করছি তা সত্যিও হতে পারে।”
তারপর দেখলাম ও একটু লাফানোর চেষ্টা করল।
আমরা ওর কাছে গেলে বলল, “এই জায়গাটার ভিতরে ফাঁকা মনে হচ্ছে। একবার লাফিয়ে দেখুন মনে হবে এর নিচে কোন খালি জায়গা আছে। এখানে দরজাও থাকতে পারে। এখানকার মাটিটাও আলগা লাগছে।”
সত্যিই তাই হল, উপরের মাটি আস্তে সরিয়ে দেখা গেল একটা দরজার মতোন, নীচ থেকে বন্ধ। অনিকের বুদ্ধিতে সবাই চমকিত হয়ে গেলাম। আনন্দে একে জড়িয়ে ধরলাম। কিন্তু সবাই যখন আমার দিকে তাকিয়ে থাকল,তখন বুঝলাম এটা অনিক নয় নিশি ছিল। কিছুক্ষণের জন্য হলেও বেকুব বনে গিয়াছিলাম।
পাঁচজন পুলিশ খুব সতর্ক হয়ে গেল। দরজার দিকে অস্ত্র তাক করে রইল। মি. নান্নু আমাদের সরে যেতে বললেন। অনেক চেষ্টায় দরজাও ভাঙ্গা হল। ভেতরে যারা ছিল উপরে ফাকা গুলি চুড়ে মারল। কেউ উকি দেয়ার সাহসও পেল না। পুলিশ অফিসার মি. নান্নুকে যতটা বোকা ভেবে ছিলাম ততটা নয়। মাথায় ভাল বুদ্ধি রাখে।
একটা দড়ির মাথায় কি যেন একটা বেধে গর্তের চোর ডাকাতদের উদ্দেশ্যে বললেন, “আমি এখন টাইম বোমা ফেলব। দুই মিনিটের ভেতর যদি বেড়িয়ে না আসিস তাহলে সবগুলো মারা পড়বি।”
গর্তের ভেতর থেকে একজন বলল, “অফিসার বোমা তোলে নিন। আমরা শিক্ষক মানুষ, এত তাড়াতাড়ি মরতে চাই না, আত্মসমর্পণ করছি।”
একজন একজন করে গর্ত থেকে বেরিয়ে আসল। এদেরকে গ্রেফতার করা হল। সিদ্দিক আর মজনুকে জীবন্তই পাওয়া গেল তবে বিবস্ত্র অবস্থায়। এ অবস্থা কেন হল জিজ্ঞাসা করার সময় পাইনি। অমলকে ডাকাতরা ধরতে পারেনি তাই এখানে পাওয়া গেল না। পুলিশ অফিসার বোমা বলে যা ছুড়ে মেরেছিলেন আমরা পরে তা পরীক্ষা করে দেখেছিলাম আসলে তা ছিল সামান্য একটা অ্যালার্ম ক্লক।
মি. নান্নু লজ্জিত হলেও আমার উপর খুব খুশি। বলা যায় না, ওনার প্রমোশনের জন্যও খুশি হতে পারেন। তবে আমাকে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিলেন। আব্বুর কাছে একগাদা গুনগানও করলেন যা আব্বুর মোটেই পছন্দ হয়নি।
যাওয়ার সময় বললেন, “তোমার কথা আমার আগেই বিশ্বাস করা উচিত ছিল। খুব ভুল হয়ে গিয়েছে। যা দুঃসাহসিকতা দেখিয়েছ সত্যিই তুলনা নেই। তোমার জন্য পুরো অপরাধ চক্রটা ধরা পড়ে গেল। দেশের মানুষ তোমার দুঃসাহসিকতা ভুলবে না।”
আমি মাথা চুলকে বললাম, “এ আর এমন কী!”
কিন্তু অমল কোথায়? পাগল খাইয়া, ছাগল খাইয়া সবজায়গা খোঁজ করা হয়েছে কোন হদিস মিলল না।
একেও শেষ পর্যন্ত পাওয়া গেল। আমার রুমে এসে আরামসে ঘুমুচ্ছে। ডেকে দিয়ে বললাম, “তুই পুলিশকে খবর দিয়েছিস?”
আড়মোড়া ভেঙ্গে বলল, “আসলে আমি ভুলে পোষ্ট অফিসে চলে গিয়াছিলাম। আর সেখানে পুলিশ না পেয়ে তোর সাথে পরামর্শ করতে তোর রুমে চলে আসলাম। তুই দেরী করলি বলে ঘুম দিলাম। ”
“ গাঁধা কোথাকার, পোষ্ট অফিসে কী তোর দাদা পুলিশ রেখেছে।”
“ দাদার কথা আসছে কেন? পুলিশ তৈরীর আগেই তিনি গত হয়েছেন।”
“ তোর গাফলতির কারণে আমরা তিন জন তো মারাও পড়তে পারতাম।”
“ সে আমি জানি, তুই সব সমলে নিবি।”
এমন তেল মারা কথা বললে আর কিছু বলা যায় বলো? তাই আমিও চুপ হয়ে গেলাম।
আমি বললাম,“ভিতরেও থাকতে পারে। আমি আর একটা পথ জানি, আসুন দেখি ঐ পথটা ব্যাবহার করে ঢুকতে পারি কি না?”
স্যার বললেন ,“ ঐটাও যদি বন্ধ করে দেয়।”
“মনে হয় না ওটা বন্ধ করা সম্ভর।”
মজনু কলা পাড়তে গিয়ে যে জায়গা দিয়ে সুড়ঙ্গে ঢুকে পড়েছিল আমি ওদের ওখানটায় নিয়ে গেলাম। আমি এখানকার অবস্থা আগের থেকে জানি। তাই আমার নামতে অসুবিধা হলো না। বাকি যারা নামল ঠ্যালাটা বুঝে গেল। স্যারকে নামতে নিষেধ করলাম। স্যার উপরে আমাদের অপেক্ষায় রইলেন।
পুলিশ অফিসার আমাদের উপর মহা বিরক্ত। কাজ ফাঁকি দেয়া লোকদের এই স্বভাব। যখন কাজ এসে পড়ে তাদের চেয়ে অখুশি আর কেউ হয় না। ভাগ্যিস, পুলিশওয়ালারা টর্চলাইট নিয়ে এসেছিল, তাই আগের মত কবরের অন্ধকারে পথ চলতে হয়নি। ত্রিমুখো সুড়ঙ্গে পৌছে নাক বরাবর চলে চোর ডাকাতদের বিশ্ববিদ্যালয় পৌঁছে গেলাম। চোর ডাকাতদের বিশ্ববিদ্যালয় এবং তাদের ডিপার্টমেন্ট দেখে সবাই পুরো থ বনে গেল। আমি একবার থ বনে গেছিলাম, তাই দ্বিতীয়বার থ বললাম না। শুধু ভাব নেয়ার চেষ্টা করলাম। পুলিশ অফিসার মুখটা কাচু মাচু করে বলল,“অথচ আমরা এর কিছুই জানতাম না। ইউনিভার্সিটি খুলল একবার অনুমতিও নিল না। ”
চোর ডাকাতদের ছাত্র শিক্ষক সব পালিয়েছে তাই জায়গাটা শূণ্য, নীরব। গরু, ছাগলগুলোও নেই। পুলিশের সাথে আমরাও বিভন্ন ডিপার্টমেন্টে গিয়ে তল্লাশি চালালাম। ওদের জিনিসপত্র সব ঠিক আছে শুধু লোক নেই।
একজন হাবিলদার সাইজের পুলিশ বলল, “স্যার, কারো কোন সাড়া পাওয়া গেলনা। সব পালিয়েছে। ”
আর একজন বলল, “কাল সকালে পুরো এলাকায় তদন্ত করা যাবে।”
অনিক সন্দেহের সুরে বলল, “আচ্ছা সুড়ঙ্গের ভিতর কী সুড়ঙ্গ থাকতে পারে না। যেমনটা ঘরের ভিতরে ঘর থাকে। ।”
আমি বললাম, “এখন তামাসা করার সময় নয়। যা বলার স্পষ্ট করে বল। ”
ও আবার বলল, “সবাই একটু এদিকে আসুন। যা ধারণা করছি তা সত্যিও হতে পারে।”
তারপর দেখলাম ও একটু লাফানোর চেষ্টা করল।
আমরা ওর কাছে গেলে বলল, “এই জায়গাটার ভিতরে ফাঁকা মনে হচ্ছে। একবার লাফিয়ে দেখুন মনে হবে এর নিচে কোন খালি জায়গা আছে। এখানে দরজাও থাকতে পারে। এখানকার মাটিটাও আলগা লাগছে।”
সত্যিই তাই হল, উপরের মাটি আস্তে সরিয়ে দেখা গেল একটা দরজার মতোন, নীচ থেকে বন্ধ। অনিকের বুদ্ধিতে সবাই চমকিত হয়ে গেলাম। আনন্দে একে জড়িয়ে ধরলাম। কিন্তু সবাই যখন আমার দিকে তাকিয়ে থাকল,তখন বুঝলাম এটা অনিক নয় নিশি ছিল। কিছুক্ষণের জন্য হলেও বেকুব বনে গিয়াছিলাম।
পাঁচজন পুলিশ খুব সতর্ক হয়ে গেল। দরজার দিকে অস্ত্র তাক করে রইল। মি. নান্নু আমাদের সরে যেতে বললেন। অনেক চেষ্টায় দরজাও ভাঙ্গা হল। ভেতরে যারা ছিল উপরে ফাকা গুলি চুড়ে মারল। কেউ উকি দেয়ার সাহসও পেল না। পুলিশ অফিসার মি. নান্নুকে যতটা বোকা ভেবে ছিলাম ততটা নয়। মাথায় ভাল বুদ্ধি রাখে।
একটা দড়ির মাথায় কি যেন একটা বেধে গর্তের চোর ডাকাতদের উদ্দেশ্যে বললেন, “আমি এখন টাইম বোমা ফেলব। দুই মিনিটের ভেতর যদি বেড়িয়ে না আসিস তাহলে সবগুলো মারা পড়বি।”
গর্তের ভেতর থেকে একজন বলল, “অফিসার বোমা তোলে নিন। আমরা শিক্ষক মানুষ, এত তাড়াতাড়ি মরতে চাই না, আত্মসমর্পণ করছি।”
একজন একজন করে গর্ত থেকে বেরিয়ে আসল। এদেরকে গ্রেফতার করা হল। সিদ্দিক আর মজনুকে জীবন্তই পাওয়া গেল তবে বিবস্ত্র অবস্থায়। এ অবস্থা কেন হল জিজ্ঞাসা করার সময় পাইনি। অমলকে ডাকাতরা ধরতে পারেনি তাই এখানে পাওয়া গেল না। পুলিশ অফিসার বোমা বলে যা ছুড়ে মেরেছিলেন আমরা পরে তা পরীক্ষা করে দেখেছিলাম আসলে তা ছিল সামান্য একটা অ্যালার্ম ক্লক।
মি. নান্নু লজ্জিত হলেও আমার উপর খুব খুশি। বলা যায় না, ওনার প্রমোশনের জন্যও খুশি হতে পারেন। তবে আমাকে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিলেন। আব্বুর কাছে একগাদা গুনগানও করলেন যা আব্বুর মোটেই পছন্দ হয়নি।
যাওয়ার সময় বললেন, “তোমার কথা আমার আগেই বিশ্বাস করা উচিত ছিল। খুব ভুল হয়ে গিয়েছে। যা দুঃসাহসিকতা দেখিয়েছ সত্যিই তুলনা নেই। তোমার জন্য পুরো অপরাধ চক্রটা ধরা পড়ে গেল। দেশের মানুষ তোমার দুঃসাহসিকতা ভুলবে না।”
আমি মাথা চুলকে বললাম, “এ আর এমন কী!”
কিন্তু অমল কোথায়? পাগল খাইয়া, ছাগল খাইয়া সবজায়গা খোঁজ করা হয়েছে কোন হদিস মিলল না।
একেও শেষ পর্যন্ত পাওয়া গেল। আমার রুমে এসে আরামসে ঘুমুচ্ছে। ডেকে দিয়ে বললাম, “তুই পুলিশকে খবর দিয়েছিস?”
আড়মোড়া ভেঙ্গে বলল, “আসলে আমি ভুলে পোষ্ট অফিসে চলে গিয়াছিলাম। আর সেখানে পুলিশ না পেয়ে তোর সাথে পরামর্শ করতে তোর রুমে চলে আসলাম। তুই দেরী করলি বলে ঘুম দিলাম। ”
“ গাঁধা কোথাকার, পোষ্ট অফিসে কী তোর দাদা পুলিশ রেখেছে।”
“ দাদার কথা আসছে কেন? পুলিশ তৈরীর আগেই তিনি গত হয়েছেন।”
“ তোর গাফলতির কারণে আমরা তিন জন তো মারাও পড়তে পারতাম।”
“ সে আমি জানি, তুই সব সমলে নিবি।”
এমন তেল মারা কথা বললে আর কিছু বলা যায় বলো? তাই আমিও চুপ হয়ে গেলাম।
No comments:
Post a Comment