সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে প্রাকটিস করতে সবাই মাঠে চলে আসলাম। পুরো একাদশ আমাদের ঠিক করা আছে। সিদ্দিক আর আঁতেল জনিকে এক্সটা খেলোয়াড় হিসাবে রাখলাম। বলা তো যায়না, কার কখন কী বিপদ ঘটে। এ কয়েকদিনে মেয়েগুলোও ক্রিকেকটাকে বেশ ভালো রপ্ত করে নিয়েছে। অনেক ছেলে থেকেও ভাল খেলছে ওরা। নিজেদের প্রমাণ করার চেষ্টা আছে। ওদের এমন ভাব যেন, সুযোগ পেলেই দেখিয়ে দিতে পারে!
ইভটেজার রকিদের সাথে খেলা শুরু হতে বেশি দেরি নেই। এর আগে গা গরম করার চেষ্টা করছি। দলের সবাই কিছুটা হলেও আত্মবিশ্বাসী। এত ফলতু খেলোয়াড় পেয়ে আমি তো পুরো হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। একমাত্র নিশি আর অনিকের উৎসাহে সবাইকে নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে গেলাম। কিছু হলেই নিশি বলত, “চিন্তা করিসনা আমরাই জিতব। ইভটেজার দল কি কখনো জিততে পারে? এমন ছক্কা মারব না, যুবরাজের রেকর্ড ভেঙ্গে দিব।” এমন কথায় কি হতাশ হওয়া যায় বলো?
খেলা শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে খবর পেলাম তুরাব খেলতে পারবেনা। বর্তমানে হাসপাতালে আছে। কথাটা শুনে পুরো আতঁকে উঠলাম। ওর উপরই আমার ভরসা ছিল সবচেয়ে বেশি। আমাদের হার্ড-হিটার ওপেনিং ব্যাটম্যান ছিল একমাত্র ওই। বলিষ্ট দেহ তাই দাঁড়িয়ে একের পর এক ছয় মারতে পারে। খবর নিয়ে জানতে পরলাম ডাকাতের আক্রমনে ওর এ অবস্থা হয়েছে। অনেক রক্তপাত হয়েছে বলে জানা গেল। অবস্থা খুব ঘোরতর বলেই মনে হলো। সব জায়গায় শুধু ডাকাত আর ডাকাতের উৎপাত! তুরাবের এই দুরাবস্থার কথা শুনে খেলা থেকে মনটাই সরে গেল। আজকের খেলাটা কোন রকমে শেষ হলেই যেন বাঁচি! শুধু আমার নয় সবার মনই মোটামুটি খারাপ হয়ে গেল।
তুরাব না থাকলে কী হবে ম্যাচ তো আমাদের শুরু করতেই হবে, তাই তুরাবের বদলে ক্ষুদ্র বালক সিদ্দিককে একদশে নিতে হলো। এটাই বোধ হয় সাপে বর হল!
রকিদের ও বেশ কনফিডেন্ট মনে হলো। ওদের এমন ভাব যেন আজ আমাদের গুড়িয়ে দেবে। তুরাব নেই দেখে ওদের ভাবটা যেন আরো বেশি। তবে যারা খেলা দেখতে এসেছে তাদের ভেতর কয়েকজন দেখলাম, “ বি যধঃব বাঃবংবৎ” লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর রকি এদের তাড়ানোর কয়েকবার বৃথা চেষ্টা করল। মেয়েরা এতে বেশ মজাই পেল।
কয়েন দিয়ে আম্পায়ের টস করলেন, টসে ওদেরই জিত হলো কিন্তু আমাদের ব্যাটিংয়ে পাঠালো। আমি আর অনিক ওপেনিং এ নামলাম। ‘রিক্শা এক্সপ্রেস’ খ্যাত আতিক বল করল। এত স্লো বল যে ছয় হাকাতে গিয়ে কট বিহাউন্ড হলাম। একেবারে ডাক মেরে মাঠ ছাড়তে হল। বিপরীত দলের খেলোয়ারদের খুশি যেন ধরে না। পূর্ব পরিকল্পনা মত নিশি নামল। বুদ্ধিমান মেয়ে ছোট ছোট শট খেলে রানের চাকা সচল রাখল। আর অনিক মনে হল প্রাসের সূত্র ভালভাবে কাজে লাগাচ্ছে। এই দুজনকে নিয়ে একটু ভরসা পাওয়া গেল। ওরা যত রান করছে আমার নিজের লজ্জা তত বাড়ছে। তবু ফপর দালালির মত ভাব বজায় রাখলাম।
কিন্তু খেলা বেশিদূর এগোল না, দশ ওভারে পঞ্চাশ রান করে সবাই সাজ ঘরে ফিরে আসল। অনিক আর নিশি আউট হওয়ার পর একজনও খুব একটা সুবিধা করতে পারল না। আর আমাদের দলের সুন্দরী বালিকা স্বর্না তো পুরো অজ্ঞান হয়ে মাঠ ছেড়েছে। এত জোরে বল আসতে দেখে বেচারি প্রথমে ভড়কে গিয়েছিল। তারপর দ্বিতীয় বলে অজ্ঞান। আমি একে দলে চাইনি কিন্তু অনিক তুরাবের জোরাজুরিতে নিতেই হল। আর কবি মজনু তো নামার আগেই আউট। কবিতা আবৃতি করে নামতে নামতে ওর খুব দেরি হয়ে গেছে। আর তাতে আম্পায়ার মহাশয় ক্ষুব্দ হয়ে নামার আগেই আউট ঘোষণা দিলেন।
এবার আমাদের বলিংয়ের পালা। বঙ্গদেশের সম¯ত বোঝা আমার উপর পড়েছে বলে মনে হল। টম ক্রুজের ‘মিশন ইমপসিবলকে’ কি ভাবে পসিবল করা যায় তাই ভাবতে লাগলাম। কিন্তু আমি যখন ইমপসিবলকে পসিবল করার চিন্তা করছি সে সময় বিপরীত দলের নুজাইম চিকা ইরফানের বলে একের পর এক বাউন্ডারী, ওভার বাউন্ডারী মেরে বঙ্গদেশের বোঝা আরো বাড়াতে লাগল। ইচ্ছা করছিল চাট্টি মেরে একে মাঠ থেকে বিদায় করি।
সৈন্য সামন্ত দিয়ে যদি কাজ না হয়, তাহলে স্বয়ং রাজাকেই যুদ্ধে নামতে হয়। তাই বীরদর্পে বল হাতে নিলাম। কিন্তু আমার সমস্ত গর্বকে আঙ্গুল দেখিয়ে প্রথব বলেই বাউন্ডারী হাকাল রকি। না আর সয্য করা যায় না। সীতার বনবাস হলে হবে তাই বলে এদের ছেড়ে দেয়া । সম¯ত রাগ বলের উপর ছুঁড়ে ‘ইভটেজার নিপাত যাক’ বলে মারলাম বল। বল এত জোরে গেল যে, বলের আঘাতে বেচারা রকি ইনজুরি প্রাপ্তি হয়ে সোজা ট্যাম্পের উপর গিয়ে পড়ল। সবাই আউট আউট বলে লাফিয়ে উঠল। আর আমি রাবন বধের মতো উাল্লাস করলাম। একটাকে শুধু বধ করলে তো হবে না। আরো সাত্ সাতটাকে বধ করতে হবে তবেই তো শান্তি। উইকেট সহজে না পড়লেও রান নিতে দিলাম না ।
অঘটন ঘটা ছাড়া আমাদের জয় অসম্ভব। তাই ভেবে, মজনুকে বল করতে বললাম। ও বল হাতে আম্পায়ারকে দেখিয়ে বলল, “এই বেটা যদি কলা গাছের মত দাঁড়িয়ে থাকলে বল করি কেমন করে? আর এদের দরকারই বা কি? কতবার বল গেল একবারও তো ধরল না।”
আমি বললাম, “বুঝেছি, তোর আর বল করতে হবে না। ওখানে গিয়ে পারলে কবিতা আবৃতি কর‘আকাশে ছুড়েছি বল, পেয়েছি সুগন্ধি মল’ তাও ভাল।”
মজনুর চিন্তা বাদ দিয়ে নতুর আরেকজনকে খুঁজলাম। ক্ষুদ্র বালক সিদ্দিককে দিয়ে কাজ হবে বলে মনে হল। বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়রা সিদ্দিকের হাতে বল দেখে হাসি-ঠাট্টা শুরু করে দিল।
আমি একে সাহস দিয়ে বললাম, “যা তুই বল কর।”
আমার ভরসায় সিদ্দিক বল করতে গেল। একেই বলে অঘটন। শেষ পর্যন্ত সৌমিক আর সিদ্দিকের স্লো বলে বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়রা কুপোকাত হল। রকিব মুখটা দেখলাম আবু কাবলির মতো হয়ে গেছে। একে দেখলে আমার একটা কথা মনে পড়ে, “দুর্জন সুন্দর হইলেও পরিত্যাজ্য।” এর চেহারা মোটামুটি সুন্দর হলেও, ব্যবহার পুরো কুকুরের মতো।
শেষ পর্যন্ত কাদের জয় হল সে তো বুঝতেই পারছ। তোমরা হয়ত বলবে একটু সিনেমাটিক হয়ে গেল না? এই দেখ, আমি যদি সাদামাটা কিছু লিখে যেতাম তাহলে কী সেটা গল্প হতো আর আমার লেখার উদ্দেশ্যও বৃথা হতো । ইভটেজাররা কেমন করে জিতবে বল, আল্লাহও যে এদের দয়া করবে না। দেশে ইভটেজাররা কী পরিস্থিতি তৈরি করেছে সে তো তোমরা ভাল করেই জানো। ইভটেজারদের বিরুদ্ধে অবশ্যই সবার রুখে দাঁড়াতে হবে।
খেলায় জিতে আমরা সিদ্দিককে ঘিরে আনন্দ করতে লাগলাম। ইচ্ছে হল একে ঘাড়ে তুলে নেই। তাই সোল্লাসে তোলেও নিলাম। সিদ্দিক লম্বায় খাটো হলে কী হবে, ওজন আছে বেশ। আর তাতেই তো ঘাড়ে ভীষণ চোট খেলাম। ঘাড়টা ভেঙ্গে গেল কিনা বুঝতে পারলাম না। তবে বাকা ঘাড় আর সোজা করতে পারলাম না। আমার ঘাড় বাকা দেখে নিশি জিজ্ঞাসা করল,“কিরে ঘাড়ে কী হয়েছে?”
আমি বললাম, “মনে হয় ঘাড়টা মচকে গিয়েছে। সোজা করতে পারছি না।” আমার কথা শুনে নিশি হাসতে লাগল। আমার দুঃখে এমন হাসি দেখে বেশ রাগ হল।
আমি ঘাড় ধরে বেশ রাগ দেখিয়েই বললাম, “এতে হাসার কী আছে?”
সেই মুখ কেলানো হাসি দিয়ে ও বলল,“ ঘাড় মচকালে কেউ বাঁচে নাকি? তোর ঘাড় জিনে না ভূতে মচকিয়েছে?”
দুঃখের সময় এমন মজা কয়জনের সয্য হয় জানি না কিন্তু আমার সয্য করতে হল কারণ আগেই প্রতিজ্ঞা করেছি ঝগড়া করব না।
ইভটেজার রকিদের সাথে খেলা শুরু হতে বেশি দেরি নেই। এর আগে গা গরম করার চেষ্টা করছি। দলের সবাই কিছুটা হলেও আত্মবিশ্বাসী। এত ফলতু খেলোয়াড় পেয়ে আমি তো পুরো হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। একমাত্র নিশি আর অনিকের উৎসাহে সবাইকে নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে গেলাম। কিছু হলেই নিশি বলত, “চিন্তা করিসনা আমরাই জিতব। ইভটেজার দল কি কখনো জিততে পারে? এমন ছক্কা মারব না, যুবরাজের রেকর্ড ভেঙ্গে দিব।” এমন কথায় কি হতাশ হওয়া যায় বলো?
খেলা শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে খবর পেলাম তুরাব খেলতে পারবেনা। বর্তমানে হাসপাতালে আছে। কথাটা শুনে পুরো আতঁকে উঠলাম। ওর উপরই আমার ভরসা ছিল সবচেয়ে বেশি। আমাদের হার্ড-হিটার ওপেনিং ব্যাটম্যান ছিল একমাত্র ওই। বলিষ্ট দেহ তাই দাঁড়িয়ে একের পর এক ছয় মারতে পারে। খবর নিয়ে জানতে পরলাম ডাকাতের আক্রমনে ওর এ অবস্থা হয়েছে। অনেক রক্তপাত হয়েছে বলে জানা গেল। অবস্থা খুব ঘোরতর বলেই মনে হলো। সব জায়গায় শুধু ডাকাত আর ডাকাতের উৎপাত! তুরাবের এই দুরাবস্থার কথা শুনে খেলা থেকে মনটাই সরে গেল। আজকের খেলাটা কোন রকমে শেষ হলেই যেন বাঁচি! শুধু আমার নয় সবার মনই মোটামুটি খারাপ হয়ে গেল।
তুরাব না থাকলে কী হবে ম্যাচ তো আমাদের শুরু করতেই হবে, তাই তুরাবের বদলে ক্ষুদ্র বালক সিদ্দিককে একদশে নিতে হলো। এটাই বোধ হয় সাপে বর হল!
রকিদের ও বেশ কনফিডেন্ট মনে হলো। ওদের এমন ভাব যেন আজ আমাদের গুড়িয়ে দেবে। তুরাব নেই দেখে ওদের ভাবটা যেন আরো বেশি। তবে যারা খেলা দেখতে এসেছে তাদের ভেতর কয়েকজন দেখলাম, “ বি যধঃব বাঃবংবৎ” লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর রকি এদের তাড়ানোর কয়েকবার বৃথা চেষ্টা করল। মেয়েরা এতে বেশ মজাই পেল।
কয়েন দিয়ে আম্পায়ের টস করলেন, টসে ওদেরই জিত হলো কিন্তু আমাদের ব্যাটিংয়ে পাঠালো। আমি আর অনিক ওপেনিং এ নামলাম। ‘রিক্শা এক্সপ্রেস’ খ্যাত আতিক বল করল। এত স্লো বল যে ছয় হাকাতে গিয়ে কট বিহাউন্ড হলাম। একেবারে ডাক মেরে মাঠ ছাড়তে হল। বিপরীত দলের খেলোয়ারদের খুশি যেন ধরে না। পূর্ব পরিকল্পনা মত নিশি নামল। বুদ্ধিমান মেয়ে ছোট ছোট শট খেলে রানের চাকা সচল রাখল। আর অনিক মনে হল প্রাসের সূত্র ভালভাবে কাজে লাগাচ্ছে। এই দুজনকে নিয়ে একটু ভরসা পাওয়া গেল। ওরা যত রান করছে আমার নিজের লজ্জা তত বাড়ছে। তবু ফপর দালালির মত ভাব বজায় রাখলাম।
কিন্তু খেলা বেশিদূর এগোল না, দশ ওভারে পঞ্চাশ রান করে সবাই সাজ ঘরে ফিরে আসল। অনিক আর নিশি আউট হওয়ার পর একজনও খুব একটা সুবিধা করতে পারল না। আর আমাদের দলের সুন্দরী বালিকা স্বর্না তো পুরো অজ্ঞান হয়ে মাঠ ছেড়েছে। এত জোরে বল আসতে দেখে বেচারি প্রথমে ভড়কে গিয়েছিল। তারপর দ্বিতীয় বলে অজ্ঞান। আমি একে দলে চাইনি কিন্তু অনিক তুরাবের জোরাজুরিতে নিতেই হল। আর কবি মজনু তো নামার আগেই আউট। কবিতা আবৃতি করে নামতে নামতে ওর খুব দেরি হয়ে গেছে। আর তাতে আম্পায়ার মহাশয় ক্ষুব্দ হয়ে নামার আগেই আউট ঘোষণা দিলেন।
এবার আমাদের বলিংয়ের পালা। বঙ্গদেশের সম¯ত বোঝা আমার উপর পড়েছে বলে মনে হল। টম ক্রুজের ‘মিশন ইমপসিবলকে’ কি ভাবে পসিবল করা যায় তাই ভাবতে লাগলাম। কিন্তু আমি যখন ইমপসিবলকে পসিবল করার চিন্তা করছি সে সময় বিপরীত দলের নুজাইম চিকা ইরফানের বলে একের পর এক বাউন্ডারী, ওভার বাউন্ডারী মেরে বঙ্গদেশের বোঝা আরো বাড়াতে লাগল। ইচ্ছা করছিল চাট্টি মেরে একে মাঠ থেকে বিদায় করি।
সৈন্য সামন্ত দিয়ে যদি কাজ না হয়, তাহলে স্বয়ং রাজাকেই যুদ্ধে নামতে হয়। তাই বীরদর্পে বল হাতে নিলাম। কিন্তু আমার সমস্ত গর্বকে আঙ্গুল দেখিয়ে প্রথব বলেই বাউন্ডারী হাকাল রকি। না আর সয্য করা যায় না। সীতার বনবাস হলে হবে তাই বলে এদের ছেড়ে দেয়া । সম¯ত রাগ বলের উপর ছুঁড়ে ‘ইভটেজার নিপাত যাক’ বলে মারলাম বল। বল এত জোরে গেল যে, বলের আঘাতে বেচারা রকি ইনজুরি প্রাপ্তি হয়ে সোজা ট্যাম্পের উপর গিয়ে পড়ল। সবাই আউট আউট বলে লাফিয়ে উঠল। আর আমি রাবন বধের মতো উাল্লাস করলাম। একটাকে শুধু বধ করলে তো হবে না। আরো সাত্ সাতটাকে বধ করতে হবে তবেই তো শান্তি। উইকেট সহজে না পড়লেও রান নিতে দিলাম না ।
অঘটন ঘটা ছাড়া আমাদের জয় অসম্ভব। তাই ভেবে, মজনুকে বল করতে বললাম। ও বল হাতে আম্পায়ারকে দেখিয়ে বলল, “এই বেটা যদি কলা গাছের মত দাঁড়িয়ে থাকলে বল করি কেমন করে? আর এদের দরকারই বা কি? কতবার বল গেল একবারও তো ধরল না।”
আমি বললাম, “বুঝেছি, তোর আর বল করতে হবে না। ওখানে গিয়ে পারলে কবিতা আবৃতি কর‘আকাশে ছুড়েছি বল, পেয়েছি সুগন্ধি মল’ তাও ভাল।”
মজনুর চিন্তা বাদ দিয়ে নতুর আরেকজনকে খুঁজলাম। ক্ষুদ্র বালক সিদ্দিককে দিয়ে কাজ হবে বলে মনে হল। বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়রা সিদ্দিকের হাতে বল দেখে হাসি-ঠাট্টা শুরু করে দিল।
আমি একে সাহস দিয়ে বললাম, “যা তুই বল কর।”
আমার ভরসায় সিদ্দিক বল করতে গেল। একেই বলে অঘটন। শেষ পর্যন্ত সৌমিক আর সিদ্দিকের স্লো বলে বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়রা কুপোকাত হল। রকিব মুখটা দেখলাম আবু কাবলির মতো হয়ে গেছে। একে দেখলে আমার একটা কথা মনে পড়ে, “দুর্জন সুন্দর হইলেও পরিত্যাজ্য।” এর চেহারা মোটামুটি সুন্দর হলেও, ব্যবহার পুরো কুকুরের মতো।
শেষ পর্যন্ত কাদের জয় হল সে তো বুঝতেই পারছ। তোমরা হয়ত বলবে একটু সিনেমাটিক হয়ে গেল না? এই দেখ, আমি যদি সাদামাটা কিছু লিখে যেতাম তাহলে কী সেটা গল্প হতো আর আমার লেখার উদ্দেশ্যও বৃথা হতো । ইভটেজাররা কেমন করে জিতবে বল, আল্লাহও যে এদের দয়া করবে না। দেশে ইভটেজাররা কী পরিস্থিতি তৈরি করেছে সে তো তোমরা ভাল করেই জানো। ইভটেজারদের বিরুদ্ধে অবশ্যই সবার রুখে দাঁড়াতে হবে।
খেলায় জিতে আমরা সিদ্দিককে ঘিরে আনন্দ করতে লাগলাম। ইচ্ছে হল একে ঘাড়ে তুলে নেই। তাই সোল্লাসে তোলেও নিলাম। সিদ্দিক লম্বায় খাটো হলে কী হবে, ওজন আছে বেশ। আর তাতেই তো ঘাড়ে ভীষণ চোট খেলাম। ঘাড়টা ভেঙ্গে গেল কিনা বুঝতে পারলাম না। তবে বাকা ঘাড় আর সোজা করতে পারলাম না। আমার ঘাড় বাকা দেখে নিশি জিজ্ঞাসা করল,“কিরে ঘাড়ে কী হয়েছে?”
আমি বললাম, “মনে হয় ঘাড়টা মচকে গিয়েছে। সোজা করতে পারছি না।” আমার কথা শুনে নিশি হাসতে লাগল। আমার দুঃখে এমন হাসি দেখে বেশ রাগ হল।
আমি ঘাড় ধরে বেশ রাগ দেখিয়েই বললাম, “এতে হাসার কী আছে?”
সেই মুখ কেলানো হাসি দিয়ে ও বলল,“ ঘাড় মচকালে কেউ বাঁচে নাকি? তোর ঘাড় জিনে না ভূতে মচকিয়েছে?”
দুঃখের সময় এমন মজা কয়জনের সয্য হয় জানি না কিন্তু আমার সয্য করতে হল কারণ আগেই প্রতিজ্ঞা করেছি ঝগড়া করব না।
No comments:
Post a Comment