সুড়ঙ্গের ভিতর বিশ্ববিদ্যালয়! নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতর সুড়ঙ্গ! অদ্ভুদ ব্যাপার! বই পত্রেও তো কোনদিন পড়িনি এই এলাকায় কোন বিশ্ববিদ্যালয় আছে। কিন্তু চোখের সামনে তো সাইনবোর্ডটা ঠিকই জ্বলজ্বল করছে। University for thief and robber (We teach here every system of robbery and give a degree). সত্যিকারের বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আবার কত ডিপার্টমেন্টে ভাগ করা। ছোট ছোট কামড়া করে এক একটা ডিপার্টমেন্টের নাম দেয়া আছে। ‘কিলার ডিপার্টমেন্ট’, ‘ধান্দাবাজ ডিপার্টমেন্ট’, ‘চাপাবাজ ডিপার্টমেন্ট’, ‘স্পাই ডিপার্টমেন্ট’.......আরো যে কত ডিপার্টমেন্ট আছে আড়ালে থাকার কারণে বলতে পারলাম না। চোর ডাকাতরাও যে ইউনিভার্সিটি খুলে শিক্ষিত হচ্ছে তা কে জানত!
অমল খুব খুশি হয়ে বলল, “আয় ভার্সিটি এলাকাটা ঘুরে আসি। ভাল জায়গা মনে হচ্ছে। আমার ভাইয়ের ভার্সিটিতে কত গিয়েছি। ভার্সিটি অনেক ভাল জায়গা, এখানে চোর ডাকাত থাকে নাকি! আয় তো।”
“থাকে না, কচু। তোদের মত অর্ধেক পড়ুয়াদের জন্য দেশের আজ এ অবস্থা। শুধু ইউনিভার্সিটি দেখে লাফাচ্ছিস। এটা যে সে ইউনির্ভাসিটি নয়, চোর-ডাকাতদের ভার্সিটি। আমাদের দেখতে পেলে, শত্রু ডিপার্টমেন্টে ঢুকিয়ে চ্যাংদোলা করবে।”
“খুব সিরিয়াস ব্যাপার তো।”
“শুধু সিরিয়াস না এর থেকেও বেশি। এখন কী করা যায় ভাবছি।”
এর ভিতরে মজনু জিজ্ঞাসা করল, “আচ্ছা ঐ গরুগুলো কেন? চোর-চেচ্ছরদের ভার্সিটি বুঝলাম কিন্তু গরু ছাগলের হাট কেন?”
“এই জিনিসটা এখনো তোর মাথায় ধরেনি। ঐখানে যত জিনিসপত্র দেখছিস সব চুরির মালপত্র। গরু চোররা গরু, ছাগল চোররা ছাগল, পাতা চোররা পাতা এনে এখানে জমা দেয়।”
“তুই এত কিছু জানলি কেমন করে?”
“দৃষ্টি প্রসারিত কর তাহলে তুইও সব বুঝবি।” কথাটা বেশ ভাব নিয়েই বললাম।
আড়াল থেকে দেখলাম দু’জন লোক কাকে যেন টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে। গলাটাও পরিচিত ঠেকছে। লোক দুটোকেও কোথায় যেন দেখেছি, ঠিক মনে পড়ছে না।
অমল আতঙ্কিত কণ্ঠে বলল, “সিদ্দিকটা ধরা পড়ে গেছে। সর্বনাশ! আমাদের কথাও বলে দিবে। আজ প্রাণ নিয়ে ফিরতে পারব না মনে হচ্ছে। হে মা কালী, দুগ্গা, বাবা গণেশ রক্ষা কর।”
“নিজের কথা বাদ দিয়ে সিদ্দিককে কিভাবে উদ্ধার করা যায় ভাব। আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে, এর জন্য একজনকে ধরা দিতে হবে। তোদের দুটোকে দিয়ে কাজ হবে না তাই আমিই ধরা দিব। এই ফাঁকে যেভাবেই হোক পালিয়ে যাবি। সাবধান, কোনভাবেই যেন ধরা না পড়িস্। এলাকায় গিয়ে বাকি সবাইকে খবর দিয়ে পুলিশ নিয়ে আসবি। ওকে, বেঁচে থাকলে দেখা হবে, নইলে এটাই শেষ দেখা।” শেষ কথাটা বলতে খুব কষ্ট হল।
মজনু দরদ দেখিয়ে বলল,“ধরা পড়লে তুই একা পড়বি কেন? আমরাও পড়ব। তুই কি আমাদের কাপুরুষ ভেবেছিস। আমার কী সাহস নেই! তুই আমার সাহস দেখতে চাস। দেখবি?”
কী আর বলব, মজনুটা এত গাঁধা চোর-ডাকাতদের হেড অফিসে গিয়ে হম্বিতম্বি শুরু করে দিল। আমরা টেনেও ধরে রাখতে পারলাম না।দেখলাম যে, চোর-ডাকাতদের ছাত্র শিক্ষক সবাই মজনুটাকে ঘিরে ধরেছে।
আর মজনু গলা হাকিয়ে বলছে, “আমার সাহস নেই, না। জান-প্রাণ এগুলো আমরাও দিতে পারি। একটু বোকা হতে পারি কাপুরুষ নই।”
এই ফাঁকে আমি আর অমল একটু পিছিয়ে ত্রিমুখী সুড়ঙ্গের বা পাশের মুখ দিয়ে পালাবার পথ খুঁজতে লাগলাম। খুঁজতে খুঁজতে একটা পথ অবশ্য পেয়েও গেলাম। তবে বা পাশে নয় ডান পাশে । এই পথটা চোর-ডাকাতরাও ব্যবহার করে বলে মনে হয়। কারণ আশেপাশে অসংখ্য পায়ের চাপ। পাহারাদারও থাকতে পারে। অসম্ভব নয়! হয়ত ঝামেলা শুনে ভিতরে গিয়েছে। এই সুযোগে আমরা সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসলাম। মনে হল যেন, কবরের শাস্তি থেকে পালিয়ে বাঁচলাম। কী বিদঘুটে সুড়ঙ্গ, বাইরে থেকে একটুও বোঝার উপায় নেই। জায়গাটাও যে কোথায় আন্দাজ করতেও পারলাম না। কোথা দিয়ে ঢুকলাম আর কোথা দিয়ে বেরিয়ে আসলাম!
“অমল, তাড়াতাড়ি দৌড়া। আশেপাশে যেখানেই পুলিশ স্টেশন থাক্ না কেন শীঘ্রি ইনফর্ম করতে হবে। একটুও টাইম লচ করা যাবে না।”
দু’জনে প্রাণের মায়া ছেড়ে দিলাম দৌড়। দৌড় দিলে কী হবে, আমাদের পিছু পিছু আরো দু’জন লোক দৌড়ে আসল। নিশ্চয়, আমাদের ধরার জন্য!
রংমহল ব্লগে গিয়েও পড়তে পারেন....
অমল খুব খুশি হয়ে বলল, “আয় ভার্সিটি এলাকাটা ঘুরে আসি। ভাল জায়গা মনে হচ্ছে। আমার ভাইয়ের ভার্সিটিতে কত গিয়েছি। ভার্সিটি অনেক ভাল জায়গা, এখানে চোর ডাকাত থাকে নাকি! আয় তো।”
“থাকে না, কচু। তোদের মত অর্ধেক পড়ুয়াদের জন্য দেশের আজ এ অবস্থা। শুধু ইউনিভার্সিটি দেখে লাফাচ্ছিস। এটা যে সে ইউনির্ভাসিটি নয়, চোর-ডাকাতদের ভার্সিটি। আমাদের দেখতে পেলে, শত্রু ডিপার্টমেন্টে ঢুকিয়ে চ্যাংদোলা করবে।”
“খুব সিরিয়াস ব্যাপার তো।”
“শুধু সিরিয়াস না এর থেকেও বেশি। এখন কী করা যায় ভাবছি।”
এর ভিতরে মজনু জিজ্ঞাসা করল, “আচ্ছা ঐ গরুগুলো কেন? চোর-চেচ্ছরদের ভার্সিটি বুঝলাম কিন্তু গরু ছাগলের হাট কেন?”
“এই জিনিসটা এখনো তোর মাথায় ধরেনি। ঐখানে যত জিনিসপত্র দেখছিস সব চুরির মালপত্র। গরু চোররা গরু, ছাগল চোররা ছাগল, পাতা চোররা পাতা এনে এখানে জমা দেয়।”
“তুই এত কিছু জানলি কেমন করে?”
“দৃষ্টি প্রসারিত কর তাহলে তুইও সব বুঝবি।” কথাটা বেশ ভাব নিয়েই বললাম।
আড়াল থেকে দেখলাম দু’জন লোক কাকে যেন টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে। গলাটাও পরিচিত ঠেকছে। লোক দুটোকেও কোথায় যেন দেখেছি, ঠিক মনে পড়ছে না।
অমল আতঙ্কিত কণ্ঠে বলল, “সিদ্দিকটা ধরা পড়ে গেছে। সর্বনাশ! আমাদের কথাও বলে দিবে। আজ প্রাণ নিয়ে ফিরতে পারব না মনে হচ্ছে। হে মা কালী, দুগ্গা, বাবা গণেশ রক্ষা কর।”
“নিজের কথা বাদ দিয়ে সিদ্দিককে কিভাবে উদ্ধার করা যায় ভাব। আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে, এর জন্য একজনকে ধরা দিতে হবে। তোদের দুটোকে দিয়ে কাজ হবে না তাই আমিই ধরা দিব। এই ফাঁকে যেভাবেই হোক পালিয়ে যাবি। সাবধান, কোনভাবেই যেন ধরা না পড়িস্। এলাকায় গিয়ে বাকি সবাইকে খবর দিয়ে পুলিশ নিয়ে আসবি। ওকে, বেঁচে থাকলে দেখা হবে, নইলে এটাই শেষ দেখা।” শেষ কথাটা বলতে খুব কষ্ট হল।
মজনু দরদ দেখিয়ে বলল,“ধরা পড়লে তুই একা পড়বি কেন? আমরাও পড়ব। তুই কি আমাদের কাপুরুষ ভেবেছিস। আমার কী সাহস নেই! তুই আমার সাহস দেখতে চাস। দেখবি?”
কী আর বলব, মজনুটা এত গাঁধা চোর-ডাকাতদের হেড অফিসে গিয়ে হম্বিতম্বি শুরু করে দিল। আমরা টেনেও ধরে রাখতে পারলাম না।দেখলাম যে, চোর-ডাকাতদের ছাত্র শিক্ষক সবাই মজনুটাকে ঘিরে ধরেছে।
আর মজনু গলা হাকিয়ে বলছে, “আমার সাহস নেই, না। জান-প্রাণ এগুলো আমরাও দিতে পারি। একটু বোকা হতে পারি কাপুরুষ নই।”
এই ফাঁকে আমি আর অমল একটু পিছিয়ে ত্রিমুখী সুড়ঙ্গের বা পাশের মুখ দিয়ে পালাবার পথ খুঁজতে লাগলাম। খুঁজতে খুঁজতে একটা পথ অবশ্য পেয়েও গেলাম। তবে বা পাশে নয় ডান পাশে । এই পথটা চোর-ডাকাতরাও ব্যবহার করে বলে মনে হয়। কারণ আশেপাশে অসংখ্য পায়ের চাপ। পাহারাদারও থাকতে পারে। অসম্ভব নয়! হয়ত ঝামেলা শুনে ভিতরে গিয়েছে। এই সুযোগে আমরা সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসলাম। মনে হল যেন, কবরের শাস্তি থেকে পালিয়ে বাঁচলাম। কী বিদঘুটে সুড়ঙ্গ, বাইরে থেকে একটুও বোঝার উপায় নেই। জায়গাটাও যে কোথায় আন্দাজ করতেও পারলাম না। কোথা দিয়ে ঢুকলাম আর কোথা দিয়ে বেরিয়ে আসলাম!
“অমল, তাড়াতাড়ি দৌড়া। আশেপাশে যেখানেই পুলিশ স্টেশন থাক্ না কেন শীঘ্রি ইনফর্ম করতে হবে। একটুও টাইম লচ করা যাবে না।”
দু’জনে প্রাণের মায়া ছেড়ে দিলাম দৌড়। দৌড় দিলে কী হবে, আমাদের পিছু পিছু আরো দু’জন লোক দৌড়ে আসল। নিশ্চয়, আমাদের ধরার জন্য!
রংমহল ব্লগে গিয়েও পড়তে পারেন....
No comments:
Post a Comment